দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ

সম্প্রসারিত বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত খসড়া চূড়ান্ত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রসারিত বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত খসড়া চূড়ান্ত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় গতকাল এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে গাড়ি, ওষুধ, সামরিক সহযোগিতা ও দক্ষিণ কোরিয়ার পরমাণুচালিত সাবমেরিন কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ও বিনিয়োগসংক্রান্ত দাবি নিয়ে গত কয়েক মাসে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, নতুন এ সমঝোতা তা কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যৌথ নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। এতে কোরীয় গাড়ি নির্মাতারা জাপানি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমপর্যায়ের সুবিধা পাবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ওষুধ রফতানির ক্ষেত্রেও একই হার প্রযোজ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোটের অংশ হিসেবে দেশটিতে ২৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন আবারো সিউলের পরমাণুচালিত সাবমেরিন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি প্রয়োজন হয়। তবে সাবমেরিনগুলো কোথায় নির্মাণ হবে, তা যৌথ নথিতে উল্লেখ নেই।

ট্রাম্প গত অক্টোবরে গিয়ংজুতে এপেক সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, সাবমেরিনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় হানহা ওশানের মালিকানাধীন শিপইয়ার্ডে তৈরি হবে। কিন্তু পরে সিউল বলেছিল, তারা নিজ দেশের উন্নত প্রযুক্তির শিপইয়ার্ডেই সাবমেরিন নির্মাণ করতে চায়।

নতুন সমঝোতা অনুযায়ী কম শুল্কের সুবিধার বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২০ হাজার কোটি ডলার কৌশলগত বিনিয়োগ করবে। প্রতি বছর এ বিনিয়োগ ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি হবে না। এর আগে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের যে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তা দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ওন অবমূল্যায়নের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এ উদ্বেগের কারণেই বিনিয়োগের সীমা কমানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট লির কার্যালয় জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো যেন বাজারে অস্থিরতা না তৈরি করে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা হয়েছে।

লি জে মিয়ং নতুন চুক্তিকে দুই দেশের দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বলে উল্লেখ করেছেন।

যৌথ নথিতে দুই দেশের নিরাপত্তা জোটের অন্যান্য দিকও উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশ কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিকমুক্ত করার লক্ষ্য আবারো নিশ্চিত করেছে। এছাড়া যুদ্ধাবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়া যেন নিজ সেনাবাহিনী পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, সে বিষয়েও তারা অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

যদিও ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সামরিক সহায়তা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যৌথ নথিতে সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। বরং বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুত ‘এক্সটেন্ডেড ডিটারেন্স’ বা সমন্বিত নিরাপত্তা প্রতিরোধ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

আরও